নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় নাম থাকা ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব হোসেন তালুকদার বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। একই রাতে থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার নামীয় ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সংগঠক মো. উজ্জল হোসেন (৩২), জেলা ছাত্রলীগের সদস্য তাজুল ইসলাম জিতু (২৯), যুবলীগের সদস্য মেজবাহ উদ্দিন (৪০), আওয়ামী লীগের কর্মী মো. টিপন (৪৬), আব্দুর রব (৫৬) এবং মনির হোসেন (৫৫)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ জুলাই সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ফরাজীকান্দা এলাকায় কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের সদস্যরা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, ষড়যন্ত্র এবং মিছিল-স্লোগানের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়।
পুলিশের দাবি, পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা এবং গোপন তদন্তে জানা যায়, মামলার নামীয় ও অজ্ঞাত আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও এর অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় সদস্য-সমর্থক। তারা সংগঠনকে পুনরায় সক্রিয় করা, সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে সেখানে একত্রিত হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ৬ আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে জেলহাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মামলার এজাহারে বর্ণিত অভিযোগগুলো পুলিশের দাবি। এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।