নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন স্থানীয় দোকানদার ও এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ।
স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “নারায়ণগঞ্জ টাইমস”–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হয় এবং এলাকায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। প্রতিবেদনের পর সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকশত দোকানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতিদিন নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। এক বাতির জন্য দৈনিক ৬০ টাকা, ফ্যান বা অন্যান্য সংযোগের জন্য আরও বেশি টাকা নেওয়া হয়। এতে করে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় হচ্ছে, যা মাস শেষে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৬ লাখ টাকায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত কামাল, যিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ সালাউদ্দিনের ছোট ভাই বলে পরিচিত। গত ৫ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় চাঁদাবাজির সময় তিনি ছাত্র-জনতার হাতে আটক হন এবং পরে গণধোলাই দিয়ে স্থানীয় সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, এই কামালই অবৈধভাবে বিদ্যুতের মিটার নামিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন।
এদিকে জানা গেছে, মোঃ সালাউদ্দিন—১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ—বর্তমানে চাঁদাবাজির একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর এলাকার অনেক দোকানদার ও সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছেন। ফল ব্যবসায়ী নাহিদ বলেন, “আগে ভয় পেতাম কিছু বলতে। এখন বিষয়টা সবার সামনে আসায় আমরা কিছুটা সাহস পাচ্ছি।”
বিকাশ দোকানদার জসিম জানান, “এই নিউজ হওয়ার পর অনেকেই জানতে পারছে আমরা কত কষ্টে ব্যবসা করি। আশা করি এখন প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”
মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ বাঙাল বলেন, “প্রতিদিন ২০০-২৫০ টাকা দেওয়া খুব কষ্টকর। নিউজ হওয়ার পর অন্তত মানুষ বুঝতে পারছে আমাদের অবস্থা।”
এলাকাবাসীর মধ্যেও প্রতিবেদনটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “এই রিপোর্ট না হলে বিষয়টা এভাবে সামনে আসতো না। এখন সবাই জানে কী হচ্ছে।”
আরেক বাসিন্দা মোশারাফ হোসেন বলেন, “এখন প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। নইলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্যের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে পুরো কার্যক্রম চলছে। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সচেতন মহলের মতে, গণমাধ্যমের এই ধরনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনই অনিয়ম-দুর্নীতি উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।