নিজস্ব প্রতিনিধি :
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে ব্যক্তি পর্যায়ের পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য জুয়েল রানা। তিনি মনে করেন, একটি জাতির উন্নয়ন কেবল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং নাগরিকদের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, সততা এবং দেশপ্রেমই একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য মোঃ জুয়েল রানা এক বিবৃতিতে বলেন, দেশ বদলাবে, যদি আমরা বদলাই। তিনি বলেন, একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ থেকে।
তিনি বলেন, দেশ বদলাবে, যদি আমরা বদলাই—এই একটি বাক্যের মধ্যেই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল দর্শন নিহিত রয়েছে। ব্যক্তি পরিবর্তনের মাধ্যমেই পরিবারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকেই রাষ্ট্রে পরিবর্তনের ধারা সৃষ্টি হয়। তাই দেশের উন্নয়ন চাইলে প্রত্যেক নাগরিককে আগে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
জুয়েল রানা বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হবে এবং সততা, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও দেশপ্রেমকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করবে। একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার নাগরিকদের চরিত্র, মূল্যবোধ এবং দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যেই নিহিত থাকে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক, সহিংসতা, বৈষম্য, সামাজিক অবক্ষয় এবং নৈতিক সংকট দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এসব সমস্যা দূর করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সমাজে ন্যায়বোধ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ সমাজই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তরুণদের সঠিক শিক্ষা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনায় গড়ে তুলতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে। তরুণদের উদ্যম, মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জুয়েল রানা বলেন, একজন নাগরিক যখন নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন, আইন মেনে চলেন, অন্যের অধিকারকে সম্মান করেন এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করেন, তখন সেই ইতিবাচক পরিবর্তন ধীরে ধীরে পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। একজন মানুষের ভালো কাজ আরেকজনকে অনুপ্রাণিত করে এবং এভাবেই ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা সৃষ্টি হয়। একটি দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজই পারে একটি উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভেদাভেদ, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি শিক্ষা, উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ এবং সামাজিক নেতৃত্ব বিকাশে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা জোরদার করতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তবে উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া কোনো কঠিন কাজ হবে না।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আইন মেনে চলা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
শেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জুয়েল রানা বলেন, “অন্যের পরিবর্তনের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজের পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। আমরা যদি নিজেদের চিন্তা, আচরণ ও কর্মে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি, তাহলে দেশও পরিবর্তিত হবে। আসুন, সবাই মিলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ হই। কারণ দেশ বদলাবে, যদি আমরা বদলাই।দেশ গঠনে ব্যক্তি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল নেতাদেশ গঠনে ব্যক্তি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল নেতাদেশ গঠনে ব্যক্তি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল নেতা