নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১৯৬৯ সালে নির্মিত ‘সুবহান হাজী ভবন’ দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভবনটি দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভবনের অংশীদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভবনের অন্যতম অংশীদার ও প্রয়াত সুবহান হাজীর সন্তান নাসির উদ্দিন জানান, ভবনটির অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তারা চার ভাই সন্তান-সন্ততিসহ ইতোমধ্যে ভবনটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ভবনের একটি সানসেট ভেঙে নিচে পড়ে যায়। ওই সময় নিচে কোনো স্কুলগামী শিক্ষার্থী না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। তবে ভবনের নিচতলায় কোমলমতি শিশুদের জন্য একটি কোচিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে, যা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নাসির উদ্দিনের দাবি, ভবনটি বর্তমানে বসবাস ও ব্যবহারের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও রাজউকের পক্ষ থেকে ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণেরও দাবি জানান তিনি।
তবে ভবনের নিচতলার দোকানদার ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা পুরো ভবন ভেঙে ফেলার পরিবর্তে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে মজবুতভাবে সংস্কার করা হলে ভবনটি ব্যবহারযোগ্য করা সম্ভব হতে পারে।
স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, সানসেট ভেঙে পড়ার ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় কেউ হতাহত হননি। তাই পুরো ভবন ভেঙে ফেলার আগে প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভবনের কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করা উচিত। সংস্কারের মাধ্যমে নিরাপদ করা সম্ভব হলে সে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভবনটির সানসেট ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ খসে পড়ে পাশের বাড়ির টিন ও বিভিন্ন আসবাবপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ভবনটির আশপাশে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির বর্তমান অবস্থা দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিশেষ করে ভবনের নিচতলায় শিশুদের কোচিং সেন্টার থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী ও ভবনের অংশীদাররা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও রাজউকের কাছে ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই, সানসেট ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দ্রুত অপসারণ এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।