নিজস্ব প্রতিবেদক | সিদ্ধিরগঞ্জ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্মরণ, দ্রোহ ও জাগরণের চেতনা ধারণ এবং আগামী দিনের প্রত্যাশা-প্রাপ্তি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার উদ্যোগে ‘দ্রোহ ও জাগরণের জুলাই স্মৃতিচারণ, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং জুলাইয়ের আহত ও শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মুহা. আবরারুল করীম-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুহা. কাউসার আহমেদ-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মাওলানা দ্বীন ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা দ্বীন ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরাই একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৪৭ সালের রাষ্ট্রগঠন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ে ছাত্রসমাজের আত্মত্যাগ ও নেতৃত্ব জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের চেতনা কেবল একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়, এটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার সময়ের দাবি। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষায় রূপান্তর করতে হবে।”
বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মুহা. আবুল হাশিম। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইসলামী মূল্যবোধ এবং মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনের প্রতিটি কর্মী ভবিষ্যতেও দেশ ও জাতির প্রয়োজনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে, ইনশাআল্লাহ।
সভাপতির বক্তব্যে মুহা. আবরারুল করীম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের তরুণ সমাজকে নতুনভাবে চিন্তা করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। শহীদদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করে আদর্শিক, নৈতিক ও সুশিক্ষিত ছাত্রসমাজ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধে উজ্জীবিত নতুন প্রজন্ম তৈরিতে ছাত্র সংগঠনগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের পাশে রাষ্ট্র ও সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহা. ইয়াছিন আরাফাত, দাওয়াহ সম্পাদক মুহা. আবিদ হাসান, অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক মুহা. সাকিব হাসান, কওমি মাদ্রাসা সম্পাদক মুহা. জাকওয়ান আহমেদ, আলিয়া মাদ্রাসা সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকী, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুহাম্মাদ হোসাইন আহমাদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মুহা. ফজলুল করীমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে জুলাই আন্দোলনের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালিত হয়। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত সবাই শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তাদের আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কেবল স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।